২০২৬ সালের রমজান ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ কবে

 ২১ শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস রচনা

প্রিয় পাঠক আপনি কি ২০২৬ সালের রমজান ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ কবে সেটা জানতে চাচ্ছেন? ২০২৬ সালের রোজা কত তারিখ থেকে শুরু হবে সেটা জানার যদি আগ্রহ থাকে তাহলে আজকের আর্টিকেল আপনার জন্য।

২০২৬-সালে-রমজান-ঈদের-সম্ভাব্য-তারিখ-কবে.webp

প্রিয় পাঠক মধ্যপ্রাচ্যের একদিন পর বাংলাদেশের রোজা ও ঈদ হয়। তাই বাংলাদেশে ২০ই ফেব্রুয়ারি রমজানের প্রথম দিন এবং ২১ মার্চ ঈদুল ফিতর পালিত হতে পারে ২০২৬ সালে।

পেজসূচীপত্রঃ ২০২৬ সালের রমজান ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ কবে

২০২৬ সালের রমজান ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ কবে

২০২৬ সালে রমজান ঈদের সম্ভাব্য তারিখ কবে জ্যোতি বিদ্যার হিসাব ও সম্ভাব্যতা চাঁদের অবস্থান অনুযায়ী ধারণা করা হতে ২০২৬ সালের ১৮ অথবা ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে রমজান মাস শুরু হতে পারে সাধারণত সাবান মাসের ২৯ তারিখ সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা গেলে পরের দিন থেকে রোজা পালন করা শুরু হবে। রমজান ও রমজানের ঈদ পুরোটাই নির্ভর করে চাঁদ দেখার উপর। তবে বাংলাদেশেসহ বিভিন্ন দেশে স্থায়ী চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে রমজানের প্রথম দিন একদিন আগে বা পরে নির্ধারিত হতে পারে। তাই এটি একটি সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে ধরা হয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আছে সরকারি চাদ দেখা কমিটির মাধ্যমে।

আরো পড়ুনঃ 
রোজা ২৯ বা ৩০ দিন পূরণ হওয়ার পর পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়। সে অনুযায়ী ২০২৬ সালে ঈদুল ফিতর হওয়ার সম্ভাব্য তারিখ হল ১৯ অথবা ২০ই মার্চ। যদি রমজান ২৯ দিনে শেষ হয় তাহলে ১৯ মার্চ ঈদ হতে পারে আর যদি ৩০ দিন পূর্ণ হয় তাহলে বিশ মার্চ ঈদ উদযাপিত হওয়া সম্ভাবনা বেশি মুসলিম বিশ্বে ঈদ আনন্দ ভ্রাতৃত্ব ও ইবাদতের মাধ্যমে পালন করা হয় তবে রমজান ও ঈদের সঠিক তারিখ নির্ভর করে চাঁদ দেখার চূড়ান্ত তারিখ অপেক্ষা করতে হবে। মধ্যপ্রদেশে যেদিন রোজা শুরু হবে তার একদিন পর আমাদের বাংলাদেশের রোজা শুরু হবে এবং মধ্যপ্রদেশে যেদিন ঈদ হবে তার একদিন পরে আমাদের বাংলাদেশে ঈদ হবে।

প্রথম রোজা সম্ভাব্য শুরুর তারিখ

২০২৬ সালের প্রথম রোজা শুরু হওয়ার সম্ভাব্য তারিখ চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে। ইসলামিক ক্যালেন্ডার পূর্বাভাস অনুযায়ী ধারণা করা হচ্ছে ২০২৬ সালের ১৭ই ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় সাবান মাসের চাঁদ দেখা যেতে পারে। যদি ঐদিন চাঁদ দেখা না যায় তাহলে ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সাল বুধবার হবে প্রথম রোজা আর যদি কোন কারনে সেদিন চাঁদ দেখা না যায় তাহলে সাবান মাস ৩০ দিন পূর্ণ করে রমজান মাস শুরু হবে।  তাই আনুমানিকভাবে বলা যায় ১৯ শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বৃহস্পতিবার থেকে প্রথম রোজা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এ কারণে প্রথম রোজার তারিখ সাধারণত ১ দিন আগে বা পরে হতে পারে যা পুরোপুরি নির্ভর করে চাঁদ দেখার উপর।

বাংলাদেশ ও বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশে প্রথম রোজা চূড়ান্ত ঘোষণা আশি সরকারি চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্তর মাধ্যমে। সাধারণত শাবান মাসের ২৯ তারিখ আকাশে নতুন চাঁদ পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং সেই অনুযায়ী পরের দিন থেকে রমজান মাস শুরু হয় আর সকল মুসলিমরা সেই চাঁদ দেখেই রোজা শুরু করে। প্রথম রোজা ১৮ অথবা ১৯ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। মুসলমানদের জন্য রমজান মাস অন্তত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদতের সময় তাই সঠিক তারিখ জানার জন্য সবাই অধিক আগ্রহে সরকারী ঘোষণার অপেক্ষা করে।

ঈদুল ফিতর সম্ভাব্য শুরুর তারিখ

ঈদুল ফিতর উদযাপনের সম্ভাব্য তারিখ চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে হবে।  ইসলামিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী রমজান মাস ২৯ বা ৩০ দিনে শেষ হয় এবং রমজান শেষ হওয়ার পরের দিন ঈদুল ফিতর পালিত হয়।  রমজান মাসে শেষ হওয়ার ১৮ বা ১৯ মার্চ সন্ধ্যায় চার দেখা যেতে পারে যদি ১৮ বছর শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায় তাহলে পরের দিন অর্থাৎ ১৯ মাস ২০২৬ বৃহস্পতিবার ঈদুল ফিতর সম্ভাবনা হবে এবং ঈদ পালিত হবে। তাই ভাবা যেতে পারে মার্চ মাসের ১৯ তারিখ ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে।

আরো পড়ুনঃ 
সেই হিসেবে ২৬ সালে ঈদুল ফিতর পালন হওয়া সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ তারিখ হচ্ছে ১৯ অথবা ২০ মার্চ। বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন মুসলিম দেশ ঈদে চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করা হয় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী। সাধারণত শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা নিশ্চিত হওয়ার পর সরকারিভাবে ঈদের দিন ঘোষণা করা হয়। ঈদুল ফিতর মুসলমানদের জন্য আনন্দ,কৃতজ্ঞতা ও মিলনের দিন তাই সবাই দিনটি পালনের জন্য সঠিক তারিখের অপেক্ষায় থাকে এবং সরকারিভাবে ঘোষণা দেওয়া হলে সেই দিনে ঈদুল ফিতর পালন করা হয় এবং মুসলমানেরা অনেক আনন্দ সাথে ঈদ উদযাপন করেন।

রমজান মাসের গুরুত্ব, ফযিলত ও তাৎপর্য

রমজান মাস ইসলামের দৃষ্টিতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ একটি মাস এই মাসে পবিত্র কোরআন নাজিল হয়েছে যা মানবজাতির জন্য হেদায়াত ও পথনির্দেশনা হিসেবে প্রেরণ করেন রমজান মাসে রোজা ফরজ করেছেন যাতে মানুষ তাকওয়া অর্জন করতে পারে এবং আত্ম সংযোগ ধৈর্যের শিক্ষা নিতে পারে। রোজার মাধ্যমে মানুষ দিনের বেলা পানাহার ও কামনা বাসনা থেকে বিরত থাকে ফলে আত্মশুদ্ধি ঘটে এবং আল্লাহর নিকট্য লাভ সহজ হয় এ মাসে জান্নাতের দরজা সমূহ খুলে দেওয়া হয় জাহান্নামের দরজা সম্য বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানকে শৃঙ্খলা বদ্ধ করা হয়। যা রমজানের ফজিলত কে মহিমান্বিত করে তোলে।

রমজান মাসের তাৎপর্য শুধু রোজা পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বরং এ মাসে প্রতিটি নেক আমলের সওয়াব পাওয়া যায় এবং সওয়াব বহুগুন বৃদ্ধি করা হয়। এই রমজান মাসে রয়েছে মহিমান্বিত ও গুনহা মাফের দিন লাইলাতুল কদর, যা হাজার মাসের চাইতেও উত্তম। তাই মুসলমানরা রমজানে বেশি বেশি নামজ, কুরআন, তিলাওয়াত, দোয়া, যিকির, ও দান সদকা করে থাকেন। রমজান মাস দুখির-দুঃখীর প্রতি সহানুভুতীশীল বৃদ্ধি পায়। সমাজে সাম্য ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠিত হয়। এসব কারনে রমজান মাস মুসলমানদের জন্য রহমত মাগফিরাত ও  নাজাতের মাস হিসেবে বিবেচিত।

২০২৬ সালের রোজার আরবি মাসের কালেন্ডার

আরবি মাস অনুযায়ী রোজার মাস হচ্ছে রমজান হিজরি ক্যালেন্ডারের নবমতম মাস। ইসলামিক নিয়ম অনুযায়ী রমজান মাস চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে শুরু হয়। সম্ভাব্য হিসেবে ২০২৬ সালে ১ রমজান ১৪৪৭ হিজরি শুরু হতে পারে ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে। ফেব্রুয়ারি মাসটি সাধারণত ২৯ বা ৩০ দিনে স্থায়ী হয়। রমজান মাসে প্রতিটি দিন অন্তত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এই মাসের সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজা পালন করা ফরজ। এই পুরো মাস যে জুরে মুসলমানরা ইবাদাত কুরআন তেলাওয়াত দোয়া ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করেন। আরবি কালেন্ডার  অনুযায়ী প্রতিদিন তারিখ সূর্যাস্তের পর পরিবর্তন হয়। নিচে রোজার মাসের কালেন্ডার দেওয়া হলো,
রোজা তারিখ (ইংরেজি) সেহরির শেষ সময় ইফতারের সময়
১ রমজান 19 Feb 2026 05:19 AM 06:04 PM
২ রমজান 20 Feb 2026 05:19 AM 06:04 PM
৩ রমজান 21 Feb 2026 05:18 AM 06:05 PM
৪ রমজান 22 Feb 2026 05:17 AM 06:05 PM
৫ রমজান 23 Feb 2026 05:16 AM 06:06 PM
৬ রমজান 24 Feb 2026 05:16 AM 06:06 PM
৭ রমজান 25 Feb 2026 05:15 AM 06:07 PM
৮ রমজান 26 Feb 2026 05:14 AM 06:07 PM
৯ রমজান 27 Feb 2026 05:13 AM 06:08 PM
১০ রমজান 28 Feb 2026 05:13 AM 06:08 PM
১১ রমজান 1 Mar 2026 05:12 AM 06:09 PM
১২ রমজান 2 Mar 2026 05:11 AM 06:09 PM
১৩ রমজান 3 Mar 2026 05:10 AM 06:10 PM
১৪ রমজান 4 Mar 2026 05:09 AM 06:10 PM
১৫ রমজান 5 Mar 2026 05:08 AM 06:11 PM
১৬ রমজান 6 Mar 2026 05:07 AM 06:11 PM
১৭ রমজান 7 Mar 2026 05:06 AM 06:12 PM
১৮ রমজান 8 Mar 2026 05:05 AM 06:12 PM
১৯ রমজান 9 Mar 2026 05:04 AM 06:13 PM
২০ রমজান 10 Mar 2026 05:04 AM 06:13 PM
২১ রমজান 11 Mar 2026 05:03 AM 06:14 PM
২২ রমজান 12 Mar 2026 05:02 AM 06:14 PM
২৩ রমজান 13 Mar 2026 05:01 AM 06:15 PM
২৪ রমজান 14 Mar 2026 05:00 AM 06:15 PM
২৫ রমজান 15 Mar 2026 04:59 AM 06:16 PM
২৬ রমজান 16 Mar 2026 04:58 AM 06:16 PM
২৭ রমজান 17 Mar 2026 04:57 AM 06:16 PM
২৮ রমজান 18 Mar 2026 04:56 AM 06:17 PM
২৯ রমজান 19 Mar 2026 04:55 AM 06:1 PM
৩০ রমজান 20 Mar 2026 04:54 AM 06:18 PM


রমজান মাসের আরবি ক্যালেন্ডার কে সাধারণত তিন ভাগে ভাগ করা হয়ঃ
  •  প্রথম ১০ দিন কে বলা হয় রহমত
  • মাঝের ১০ দিন মাগফিরাত এবং 
  • শেষ ১০ দিন কে বলা হয় নাজাত
 ২০২৬ সালের রমজান মাসে একুশে রমজান থেকে শেষ পর্যন্ত শেষ দশজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এই সময় লাইলাতুল কদর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। আর বিকেলের অনুযায়ী ২৯ রমজান শেষে চাঁদ দেখা গেলে রমজান মাস শেষ হয়ে শাওয়াল মাস শুরু হয় এবং তখন ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয় যেহেতু হিজরি ক্যালেন্ডার পুরোপুরি চাঁদের উপর নির্ভর তাই দেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও চাঁদ দেখার উপর ভিত্তি করে ২৬ সালের রোজা শুরু ও শেষ একদিন আগে পরে হতে পারে।

রমজান মাসে গুনহা মাফ ও আমল করার উপাই

রমজান মাস আল্লাহতালার পক্ষ থেকে বান্দা যেন এক বিশেষ নেয়ামত যে মাসে গুনাহ মাপের দরজা অবহিত করে দেওয়া হয় এই পবিত্র মাসে গুনাহ মাফ পাওয়ার সবচেয়ে বড় উপায় হল খাঁটি তওবা করা তওবা মানে শুধু মুখে ক্ষমা চাওয়া নয় বরং হৃদয় থেকে অনুতপ্ত হওয়া। ভবিষ্যতে আর কখনো গুনাহ হবে না বা নিজে কখনো মিথ্যা কথা বলা যাবে না এরকম আস্থা করা। রমজানে রোজা রাখার মাধ্যমে মানুষের নিজের নফসকে সংযত করে যা গুনা থেকে বাঁচতে সহায়তা করে পাশাপাশি নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় জামাতে নামাজ পড়ার চেষ্টা কোরান তেলাওয়াত জিকির দুধপাত করা গুনা মাপের অন্যতম মাধ্যম।

হাদিসে এসেছে ঈমান ও সহাবের আশে রমজানের রোজা ও রাতের ইবাদত করলে পূর্বের বুনা সমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হয় তাই এ মাসে প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা অন্তত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত রমজান মাসে আমল করার আরেকটি বড় উপায় মানবিক গুণাবলী ও চরিত্র সংশোধন। আমাদের যা যা ব্যবহার যা মনে হোক না কেন রমজান মাসে যদি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই এবং ভবিষ্যতে আর সেই ভুলগুলো না করা না চেষ্টা করি তাহলে আল্লাহ আমাদের নিশ্চয়ই ক্ষমা করবেন এবং আমাদের রহমত নাযিল করবেন

শুধু এবাদত করলে যথেষ্ট নয় বরং মিথ্যা কথা বলা, গীবত করা, হিংসা পোষণ করা, ঝগড়া-বিবাদ থেকে নিজেকে বিরত রাখা নেক আমলের অন্তর্ভুক্ত। রোজার প্রকৃত হলো উদ্দেশ্য  তাকওয়া অজন করা আর তাকওয়া তখনি পূর্ণতা পাই যখন মানুষের আচার-আচরণ সুন্দর হয়। এই মাসে দান করা গরিব দুঃখীতে সাহায্য করা আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের হক আদায় করা গুনহা মাফের অন্যতম মাধ্যম। বিশেষ করে শেষ  দশকে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া এই ইতিফাক বেশি বেশি দোয়া করা এবং লাইলাতুল কদর অন্বেষণ করা অন্তত ফজিলতের কাজ যে ব্যাক্তি রমজান মাসকে যথাযথভাবে ইবাদত করবেন এক আমলের মাধ্যমে রমজান মাস পার করবে আল্লাহ তাআলা মাফ করে দিবেন এবং তাকে পরিপূর্ণ জীবন গঠনের সুযোগ দান করবেন।

২০২৬ সালের রোজার বাংলা মাসের কালেন্ডার

২০২৬ সালে রোজার মাস রমজান এবং বাংলা কালেন্ডার অনুযায়ী মূলত ফাল্গুন ও চৈত্র মাসের মধ্যে পড়বে। সম্ভব্য তারিখ অনুযায়ী রোজা শুরু হতে পারে ফাল্গুন মাসের শেষের দিকে, অর্থাৎ প্রায় ৫ বা ৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দের কাছাকাছি সময় থেকে এবং রোজার শেষ দিক গিয়ে পড়বে চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে। তাই ধরা যায় রোজার প্রথম দিকের দিন গুলো পড়বে ফাল্গুন মাসে এবং রোজার শেষের দিন গুলো পরবে চৈত্র মাসে পালন করা হবে। 

বাংলা মাস অনুযায়ী ফাল্গুন মাসের আবহাওয়া তুলনামূলক উষ্ণ থাকে, দিনের সময় দীঘ হয় এবং রোজাদারদের জন্য কষ্ট ও ধৈর্য পরীক্ষা আরো গভীর হয়। বাংলা কালেন্ডারের সাথে আরবি কালেন্ডারের কোন মিল থাকে না। কারন বাংলা মাস সূর্য ভিত্তিক এবং আরবি মাস চাঁদ ভিত্তিক হওয়ায় রোজার দিনগুলো প্রতিবছর বাংলা মাসে কিছুটা এগিয়ে আসে। নিচে রোজার বাংলা মাসের কালেন্ডার দাওয়া হলোঃ

২০২৬ সালে রোজার বাংলা মাসের কালেন্ডার বিবেচনায় দেখা যায় ফাল্গুন মাসের শেষের দিকে ১০-১২ দিন এবং চৈত্র মাসে রোজার বাকি দিনগুলো পালিত হবে। রমজানের শেষ ১০ দিন ইবাদাতের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ কারন শেষ ১০ দিনে লাইলাতুল কদরের রাত হওয়ার সম্ভব্যনা থাকে।

রমজান মাসে দান সদকার গুরুত্ব ও ফযিলত 

রমজান মাস দান-সদকার গুরুত্ব ফজিলতের দিক থেকে বছরের সব মাসের থেকে সর্বোত্তম একটি মাস। এ পবিত্র মাসে একটি নেক কাজের নেকি বহুগুণ বৃদ্ধি করা হয়। আর দান-সদকার সওয়াব আল্লাহতালা বিশেষভাবে বাড়িয়ে দেন। রমজানে দান করার মাধ্যমে শুধু সম্পদ পরিবর্তন হয় না বরং মানুষের অন্তরে শুদ্ধ ও পরিষ্কার হয় হাদিসে এসেছে রমজান মাসে আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ (স) সবচেয়ে বেশি দানশীল করছেন। এ মাসে গরিব অসহায় অভাবগ্রস্ত মানুষদের সাহায্য করা ও অন্তত ফজিলতপূর্ণ আমল। বিশেষ করে রোজাদারকে ইফতার করানো, খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা, জাকাত ও ফিতরা আদায় করা রমজানের গুরুত্বপূর্ণ দান-সদকার অন্তর্ভুক্ত। এসব দানের মাধ্যমে সমাজের সহমর্মিতা তৈরি হয় এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথ সুন্দর হয়।

আরো পড়ুনঃ 
রমজান মাসে দান সদকা মানুষের গুনহা মাফের একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে পরিচিত। দান করার পর আল্লাহতালা বান্দার বিপদ আপদ দূর করে দেন এবং রিজিকের বরকত দেন। কুরআন ও হাদিসে উল্লেখ আছে গোপনে দান করা আল্লাহর কাছে প্রিয় এবং আল্লাহর গজব নিবারণ করেন। রমজানের শেষ দিনে দান-সদকা করলে এর ফজিলত আরো বেশি কারণ এই সময় লাইলাতুল কদরের সন্ধান করা হয়। যে রাতে হাজার মানুষের ইবাদতের চেয়ে উত্তম হাসিমুখে কথা বলা কাউকে উপকার করা ক্ষমা করে দেওয়া এসব সদকার অন্তর্ভুক্ত। তাই রমজান মাসে দান সদকার অভ্যাস গড়ে তুললে তা শুধু এ মাসে নয় বরং সারা জীবনের জন্য একজন মানুষ আল্লাহ অলির ও মানবিক হিসেবে গড়ে তোলে তাই রমজান মাসে বেশি বেশি দান সদকা করতে হবে।

২০২৬ সালের রোজার ইংরেজি মাসের কালেন্ডার

২০২৬ সালের রোজার মাস ইংরেজি মাসের কালেন্ডার অনুযায়ী  প্রায় ফেব্রুয়ারী ও মার্চ মাসের মধ্যে পড়বে। আনুমানিক হিসাব অনুযায়ী ১ রমজান ১৪৪৭ হিজরি শুরু হতে পারে ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ বৃহস্পতিবার। রমজান মাস সাধারণত ২৯ বা ৩০ দিন এ হয়, তাই রোজার শেষ দিন গুলো ১৮ বা ১৯ মার্চ ২০২৬ পযন্ত চলার সম্ভাবনা রয়েছে। এই মাসে সকল রোজাদার বাক্তি সূর্যদয় থেকে সূর্যস্ত পযন্ত রোজা রাখেন। রোজাদার বাক্তি ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন, কোরআন তিলাওয়াত করেন ও দোয়া করেন।

ইংরেজি কালেন্ডারের সঙ্গে হিজরী কালেন্ডারের তারিখ পুরোপুরি মিলে না কারণ রমজান মাস চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে হয়। তাই নিদিষ্ট তারিখের ১-২ দিন আগে পরে হতে পারে। রমজান মাসে প্রতিদিন আল্লাহর নৈকত্য লাভের জন্য ও পূর্বের গুনহা মাফের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এই মাসের প্রতিটি ন্রক কাজের সওয়াব বহুগুন পাওয়া যায়। নিচে হিজরী ও ইংরেজি কালেন্ডার দাওয়া হলো,
 
রমজান হিজরি(১৪৪৭) ইংরেজি তারিখ ২০২৬
১ রমজান 1 ফেব্রুয়ারী (বৃহস্পতিবার)
২ রমজান 2 ফেব্রুয়ারী (শুক্রবার)
৩ রমজান 3 ফেব্রুয়ারী (শনিবার)
৪ রমজান 4 ফেব্রুয়ারী (রবিবার)
৫ রমজান 5 ফেব্রুয়ারী (সোমবার)
৬ রমজান 6 ফেব্রুয়ারী (মঙ্গলবার)
৭ রমজান 7 ফেব্রুয়ারী (বুধবার)
৮ রমজান 8 ফেব্রুয়ারী (বৃহস্পতিবার)
৯ রমজান 9 ফেব্রুয়ারী (শুক্রবার)
১০ রমজান 10 ফেব্রুয়ারী (শনিবার)
১১ রমজান 11 ফেব্রুয়ারী (রবিবার)
১২ রমজান 12 ফেব্রুয়ারী (সোমবার)
১৩ রমজান 13 ফেব্রুয়ারী (মঙ্গলবার)
১৪ রমজান 14 ফেব্রুয়ারী (বুধবার)
১৫ রমজান 15 ফেব্রুয়ারী (বৃহস্পতিবার)
১৬ রমজান 16 ফেব্রুয়ারী (শুক্রবার)
১৭ রমজান 17 ফেব্রুয়ারী (শনিবার)
১৮ রমজান 18 ফেব্রুয়ারী (রবিবার)
১৯ রমজান 19 ফেব্রুয়ারী (সোমবার)
২০ রমজান 20 ফেব্রুয়ারী (মঙ্গলবার)
২১ রমজান 21 ফেব্রুয়ারী (বুধবার)
২২ রমজান 22 ফেব্রুয়ারী (বৃহস্পতিবার)
২৩ রমজান 23 ফেব্রুয়ারী (শুক্রবার)
২৪ রমজান 24 ফেব্রুয়ারী (শনিবার)
২৫ রমজান 25 ফেব্রুয়ারী (রবিবার)
২৬ রমজান 26 ফেব্রুয়ারী (সোমবার)
২৭ রমজান 27 ফেব্রুয়ারী (মঙ্গলবার)
২৮ রমজান 28 ফেব্রুয়ারী (বুধবার)
২৯ রমজান 29 ফেব্রুয়ারী (বৃহস্পতিবার)
৩০ রমজান 30 ফেব্রুয়ারী (শুক্রবার)

রমজানের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচী

২০২৬ সালের রমজান মাসে রাতের প্রতিদিনের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী রোজার জন্য আলাদা আলাদা নির্ধারণ করা আছে। যা স্থায়ী সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের উপর ভিত্তি করে হিসাব করা হয়েছে এর অর্থ হল প্রতিদিন সকাল থেকে রোজাদার নির্দিষ্ট সময় শেষ করে রোজা শুরু করেন এবং সন্ধ্যায় সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করেন আমরা প্রথম থেকে ৩০ তম রোজা পর্যন্ত রাজশাহী জেলা রমজানের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচী দেওয়া হলো,
রোজা তারিখ (ইংরেজি) সেহরির শেষ সময় ইফতারের সময়
১ রমজান 19 Feb 2026 05:19 AM 06:04 PM
২ রমজান 20 Feb 2026 05:19 AM 06:04 PM
৩ রমজান 21 Feb 2026 05:18 AM 06:05 PM
৪ রমজান 22 Feb 2026 05:17 AM 06:05 PM
৫ রমজান 23 Feb 2026 05:16 AM 06:06 PM
৬ রমজান 24 Feb 2026 05:16 AM 06:06 PM
৭ রমজান 25 Feb 2026 05:15 AM 06:07 PM
৮ রমজান 26 Feb 2026 05:14 AM 06:07 PM
৯ রমজান 27 Feb 2026 05:13 AM 06:08 PM
১০ রমজান 28 Feb 2026 05:13 AM 06:08 PM
১১ রমজান 1 Mar 2026 05:12 AM 06:09 PM
১২ রমজান 2 Mar 2026 05:11 AM 06:09 PM
১৩ রমজান 3 Mar 2026 05:10 AM 06:10 PM
১৪ রমজান 4 Mar 2026 05:09 AM 06:10 PM
১৫ রমজান 5 Mar 2026 05:08 AM 06:11 PM
১৬ রমজান 6 Mar 2026 05:07 AM 06:11 PM
১৭ রমজান 7 Mar 2026 05:06 AM 06:12 PM
১৮ রমজান 8 Mar 2026 05:05 AM 06:12 PM
১৯ রমজান 9 Mar 2026 05:04 AM 06:13 PM
২০ রমজান 10 Mar 2026 05:04 AM 06:13 PM
২১ রমজান 11 Mar 2026 05:03 AM 06:14 PM
২২ রমজান 12 Mar 2026 05:02 AM 06:14 PM
২৩ রমজান 13 Mar 2026 05:01 AM 06:15 PM
২৪ রমজান 14 Mar 2026 05:00 AM 06:15 PM
২৫ রমজান 15 Mar 2026 04:59 AM 06:16 PM
২৬ রমজান 16 Mar 2026 04:58 AM 06:16 PM
২৭ রমজান 17 Mar 2026 04:57 AM 06:16 PM
২৮ রমজান 18 Mar 2026 04:56 AM 06:17 PM
২৯ রমজান 19 Mar 2026 04:55 AM 06:1 PM
৩০ রমজান 20 Mar 2026 04:54 AM 06:18 PM

ইদুল ফিতরের লম্বা ছুটির দিন

ঈদুল ফিতর মুসলমানদের জন্য বছরের সবচেয়ে আনন্দ ও পবিত্র উৎসব। রমজান মাসে রোজা শেষ করে ঈদ উদযাপনের মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এবং পরিবারের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে। সাধারণত ঈদুল ফিতরের ছুটি একদিন হলেও বাংলাদেশের সরকার হিসেবে এটি ২-৩ দিন বা তারও বেশি কখনো বেশি ধরে চলে এই স্কুল কলেজ অফিস এবং সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে। যাতে মানুষ পরিবার আছে বন্ধুদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করতে পারে। ঈদুল ফিতরের দিন সকালে মুসলমানরা বিশেষ করে ঈদের মাঠের ভিতর নামাজ পড়ে। নতুন জামা কাপড় পড়ে শুভেচ্ছা জানানো এবং পরিবার আতিস্বজনকে নিয়ে ঈদ উদযাপন করা সবার মাঝে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়া হয়।

ঈদুল ফিতরের ছুটি কেবল একটি উৎসবে ছুরি নয় বরং এটি মানুষের বিশ্রাম আত্মসুদ্ধি এবং আত্মীয় পরিজনকে সময় দেওয়ার সুযোগ করে। দীর্ঘদিন রোজা রাখার পর এই ছুটি পরিবার এবং সমাজে আনন্দ এবং সবার সঙ্গে নৈতিক ও মানবিক সম্পর্কের শক্তিশালী করার জন্য কাজে লাগ। ছুটি চলাকালীন মানুষ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড অংশগ্রহণ করে যে মন আসাদ বাদে খাবারের আয়োজন এবং পরিবারের সঙ্গে ঈদুল ফিতরের লম্বা ছুটি মুসলমান একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচিত করা হয়।

আমাদের মন্তব্যঃ ২০২৬ সালের রমজান ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ কবে

প্রিয় পাঠক আজকের আর্টিকেল থেকে আপনারা জেনেছেন ২০২৬ সালের রমজান ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ সম্পর্কে এর সাথে সাথে আপনার আরো জানতে পেরেছেন রমজান মাসের ফজিলত এবং রমজান মাসে কি কি করলে ভালো হবে সেগুলো সম্পর্কে গুনাহ মাপের বিভিন্ন কারণ কিভাবে আল্লাহর ইবাদত করতে হবে এবং পূর্ণতা অর্জন করতে হবে সে সকল বিষয়গুলো সম্পর্কে আজকে জানতে পারলেন।

২০২৬ সালের রমজানের ঈদের সম্ভাব্য তারিখ সম্পর্কে জানতে পারলেন রমজানের সম্ভবত ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এবং ঈদের সম্ভাব্য তারিখ ১৯ মার্চ ২০২৬ রমজান মাস পুরোটাই চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে হয় তাই চাঁদ দেখা কমিটি ঘোষণা দেওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আপনি সুমি২৪ এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url